Logo Text Logo

স্বপনেন্দু নন্দী

Article
Published by Wikiprofiles
স্বপনেন্দু নন্দী
স্বপনেন্দু নন্দী
Name স্বপনেন্দু নন্দী
Born ১৩ অক্টোবর ১৯৬২
Birthplace নিউ পাটাকুড়া গ্রাম, কোচবিহার জেলা, পশ্চিমবঙ্গ
Father বিমলেন্দু নন্দী
Mother বেলা (তপতী) নন্দী
Paternal Grandfather হৃদয় নাথ নন্দী
Paternal Grandmother অবন্তী বালা নন্দী
Maternal Grandfather জিতেন্দ্র নাথ দে
Maternal Grandmother প্রভাবতী দে
Spouse মানসী ঠাকুর
Children রেশমা, ঋত্বিকা
Son-in-law দেবাশীষ গুহ নিয়োগী (জ্যেষ্ঠ জামাতা)
Occupation গণিত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, গণিত-শিক্ষা প্রচারক, সমাজসচেতন শিক্ষানুরাগী
Education M.Sc. in Mathematics, B.Ed., M.A. in Education
Alma Mater আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল মহাবিদ্যালয়; উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়; আলিপুরদুয়ার জংশন রেলওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
Schools হায়দারপাড়া বুদ্ধভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; দেবনগর সতীশ লাহিড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; মোহিতনগর কলোনি তারা প্রসাদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
Known for গণিত শিক্ষা, অঙ্কই জীবনের ছন্দ, নারী শিক্ষা ও Empowerment, Magic Maths
Notable quote অঙ্কই জীবনের ছন্দ
Awards বঙ্গ অনন্য সম্মান; Magic Book of Records
Organizations North Bengal Educational Trust; পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ‘আঙ্কিক কর্ণার’; বিজ্ঞান মঞ্চের দার্জিলিং জেলা কমিটি

স্বপনেন্দু নন্দী

বিশিষ্ট গণিত শিক্ষক | শিক্ষাবিদ | প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক | গণিত-শিক্ষা প্রচারক | সমাজসচেতন শিক্ষানুরাগী

“অঙ্কই জীবনের ছন্দ”


পরিচিতি

স্বপনেন্দু নন্দী পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের শিক্ষা জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত একজন গণিত শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। গণিতকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ, আনন্দদায়ক ও ভীতিমুক্ত করে উপস্থাপন করা, শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বিশেষত ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা ও স্বনির্ভরতার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য তিনি পরিচিত।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, প্রশাসন এবং সামাজিক উদ্যোগ—তিন ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম মূল কথা—“অঙ্কই জীবনের ছন্দ”। তাঁর মতে, সঠিক পদ্ধতিতে শেখানো গেলে গণিত ভয়ের বিষয় নয়; বরং যুক্তি, কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও আনন্দের এক আকর্ষণীয় জগৎ।

হায়দারপাড়া বুদ্ধভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গণিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দেবনগর সতীশ লাহিড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মোহিতনগর কলোনি তারা প্রসাদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গেও শিক্ষকতার সূত্রে যুক্ত ছিলেন।


Early Life & Family

স্বপনেন্দু নন্দীর জন্ম ১৩ অক্টোবর ১৯৬২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার নিউ পাটাকুড়া গ্রামে

তাঁর পিতা বিমলেন্দু নন্দী এবং মাতা বেলা (তপতী) নন্দী। তাঁর পিতামহ ছিলেন হৃদয় নাথ নন্দী এবং পিতামহী অবন্তী বালা নন্দী। মাতামহ ছিলেন জিতেন্দ্র নাথ দে এবং মাতামহী প্রভাবতী দে

তাঁরা তিন ভাই; তাঁদের কোনো বোন নেই। তাঁর শৈশব ও কৈশোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের চেঁচাখাতা অঞ্চলে, নোনাই নদীর তীরে

তাঁর স্ত্রী মানসী ঠাকুর। তাঁদের দুই কন্যা—রেশমাঋত্বিকা। জ্যেষ্ঠ জামাতা দেবাশীষ গুহ নিয়োগী


Education

স্বপনেন্দু নন্দীর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে আলিপুরদুয়ারে। তিনি আলিপুরদুয়ার জংশন রেলওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৮০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

গণিতের প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে উচ্চশিক্ষায় এই বিষয়টিকেই বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর তিনি কোচবিহারের আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল মহাবিদ্যালয়ে গণিত নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করেন।

পরবর্তীতে তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে—

M.Sc. in Mathematics, B.Ed. এবং M.A. in Education

জীবনের পরিণত পর্যায়েও তাঁর শিক্ষাগ্রহণের আগ্রহ থেমে থাকেনি। প্রায় ৫৫ বছর বয়সে, অবসর গ্রহণের কয়েক বছর আগে, তিনি শিক্ষাবিজ্ঞানে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আজীবন শেখার প্রতি তাঁর এই আগ্রহ তাঁর শিক্ষক-সত্তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।


Teaching Career

স্বপনেন্দু নন্দীর পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রয়েছে বিদ্যালয় শিক্ষা ও গণিত।

তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে দেবনগর সতীশ লাহিড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহিতনগর কলোনি তারা প্রসাদ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে হায়দারপাড়া বুদ্ধভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় যুক্ত ছিল।

হায়দারপাড়া বুদ্ধভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনি গণিত শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

একজন বিদ্যালয় প্রশাসক হিসেবে তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু পরীক্ষার ফলাফল উন্নত করা নয়; বরং এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে, নতুন কিছু শিখতে এবং নিজেদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে উৎসাহ পায়।

তিনি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর প্রধান পরীক্ষকসহ বিভিন্ন দায়িত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।


Mathematics Education — “অঙ্কই জীবনের ছন্দ”

স্বপনেন্দু নন্দীর শিক্ষাদর্শনের সবচেয়ে পরিচিত দিক হলো গণিতকে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলার প্রচেষ্টা।

তিনি বিশ্বাস করেন—

“অঙ্কই জীবনের ছন্দ।”

তাঁর মতে, বহু শিক্ষার্থীর গণিতভীতি বিষয়টির প্রকৃত জটিলতার চেয়ে শেখানোর পদ্ধতি ও মানসিক বাধার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। তাই প্রথাগত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে তিনি যুক্তি, পর্যবেক্ষণ, বাস্তব উদাহরণ এবং খেলার মাধ্যমে গণিত বোঝানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Magic Maths & Learning Through Play

জ্যামিতিক নকশা, সংখ্যার খেলা, ধাঁধা, Math Tricks এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যকলাপের মাধ্যমে তিনি গণিতের ধারণাগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

এর উদ্দেশ্য ছিল অঙ্ককে শুধু পরীক্ষার বিষয় হিসেবে না দেখে চিন্তা ও আবিষ্কারের আনন্দময় অনুশীলন হিসেবে তুলে ধরা।

Real-Life Mathematics

বীজগণিত, জ্যামিতি বা অন্যান্য গাণিতিক ধারণাকে বাস্তব জীবনের ঘটনা, পরিবেশ, ছন্দ ও পরিচিত উদাহরণের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝানোর চেষ্টা তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।


Work After Retirement

বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পরও শিক্ষা ও গণিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি।

শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের আগ্রহ তৈরি এবং গণিতভীতি দূর করার লক্ষ্যে তিনি কর্মশালা, বিশেষ ক্লাস ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

বিশেষত সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিকভাবে গণিত শেখানো এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি North Bengal Educational Trust-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবেও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।


Women’s Education & Empowerment

স্বপনেন্দু নন্দীর সামাজিক-শিক্ষামূলক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারী শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা এবং ছাত্রীদের স্বনির্ভরতার প্রতি উৎসাহ প্রদান

“উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে নয়” উদ্যোগ

২০১৯ সালে হায়দারপাড়া বুদ্ধভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন তিনি একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

ছাত্রীদের অন্তত স্নাতক স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন করে স্বাবলম্বী হওয়ার আগে বিয়ে না করার অঙ্গীকারে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার ধারাবাহিকতা, আত্মনির্ভরতা এবং অল্প বয়সে বিয়ের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা।


Gender Equality Through Tradition

২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সরস্বতী পূজায় ছাত্রীদের প্রশিক্ষিত করে পুরোহিতের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার উদ্যোগ তাঁর লিঙ্গ-সমতা বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রচলিত ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন চিন্তা এবং নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।


Student Welfare Initiatives

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনমুখী দক্ষতা ও স্বনির্ভরতার প্রতি উৎসাহিত করাও তাঁর প্রশাসনিক চিন্তার অংশ ছিল।

শিক্ষিকা চন্দনা ব্যানার্জীঅনামিকা ঘোষ-এর উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের Soap Paper এবং দোল উৎসবের জন্য জৈব রং তৈরির মতো কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সৃজনশীলতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ স্বনির্ভরতার ধারণা তৈরি করা।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বই-খাতা সংগ্রহে সহযোগিতা, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনে তাদের শিক্ষার তদারকির মতো কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।


Safety & Welfare of School Workers

২০১৭ সাল থেকে বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য নিজের অনুদানের মাধ্যমে অগ্নি-সুরক্ষা বীমা চালুর উদ্যোগের কথাও তাঁর সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নয়, বিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকেও গুরুত্ব দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে এই উদ্যোগটি উল্লেখযোগ্য।


Science, Environment & Social Awareness

গণিত শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গেও স্বপনেন্দু নন্দীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।

তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ‘আঙ্কিক কর্ণার’-এর দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের মাধ্যমে গণিত শেখানোর ধারণা প্রচারে কাজ করেছেন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান মঞ্চের দার্জিলিং জেলা কমিটির সম্পাদক হিসেবে তিনি মহানন্দা নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

শিক্ষার সঙ্গে পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্বকে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা তাঁর কাজের পরিধিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত করেছে।


Culture & Intellectual Awareness

স্বপনেন্দু নন্দী শিক্ষাকে শুধুমাত্র পাঠ্যবই ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতী নন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মনীষীদের চিন্তাধারা পরিচিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

শ্রী অরবিন্দসহ বিভিন্ন মনীষীর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রচারমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও তাঁর সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।


Awards & Recognition

শিক্ষা, গণিতচর্চা এবং সামাজিক উদ্যোগের জন্য স্বপনেন্দু নন্দী বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা লাভ করেছেন।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তাঁর উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে—

‘বঙ্গ অনন্য সম্মান’ (Banga Ananya Samman) এবং Magic Book of Records-এ তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নাম নথিভুক্ত হওয়া।

এই সম্মাননাগুলো তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং শিক্ষা ও সমাজকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


Educational Philosophy

স্বপনেন্দু নন্দীর কর্মজীবনের মূল দর্শনকে কয়েকটি ধারণায় সংক্ষেপ করা যায়—শিক্ষা, যুক্তিবোধ, আনন্দ, সমতা, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক দায়িত্ব।

তাঁর কাছে একজন শিক্ষকের ভূমিকা শুধুমাত্র পাঠ্যক্রম শেষ করা নয়। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস তৈরি করেন, ব্যর্থতার ভয় দূর করেন এবং নিজের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করেন।

গণিতের ক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ্য ছিল অঙ্কের প্রতি প্রচলিত ভীতি দূর করে শিক্ষার্থীদের বোঝানো যে গণিত দৈনন্দিন জীবন, প্রকৃতি, যুক্তি ও ছন্দের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।


Legacy

একজন কৌতূহলী গণিতের ছাত্র থেকে শিক্ষক, বিদ্যালয়ের প্রধান, গণিত-শিক্ষা প্রচারক এবং সমাজসচেতন শিক্ষাবিদ হয়ে ওঠার স্বপনেন্দু নন্দীর দীর্ঘ পথচলা শিক্ষা ও অধ্যবসায়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

তাঁর কর্মজীবনের বিশেষত্ব শুধু তিনি কত বছর শিক্ষকতা করেছেন বা কোন কোন পদে ছিলেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা, লিঙ্গ সমতার বার্তা দেওয়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং অবসরের পরও শিক্ষার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার মধ্যেই তাঁর শিক্ষাজীবনের বৃহত্তর পরিচয় নিহিত।

শ্রেণিকক্ষ থেকে সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই শিক্ষাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

আজও তাঁর বহুল ব্যবহৃত শিক্ষাদর্শন তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত—

“অঙ্কই জীবনের ছন্দ।”

স্বপনেন্দু নন্দী তাই কেবল একজন গণিত শিক্ষক বা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হিসেবেই নন, বরং উত্তরবঙ্গের শিক্ষা, গণিতচর্চা, শিক্ষার্থী-কল্যাণ এবং সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত একজন নিবেদিত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।

Appearance hide
Text
Width
Color
See also